বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ভোটের রাজনীতিতে পটুয়াখালীর বাউফলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে হামলা চালানো স্বৈরাচারের দোসর আওয়ামী লীগ কর্মীদের কাছে টানছেন জামায়াতে ইসলামী। এরকম অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র ও তাদের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদে রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপজেলার কনকদিয়া ইউপির আমীরাবাদ বাজারে বিএনপি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন তপু। সংবাদ সন্মেলনে বক্তারা বলেন, ভোট বাড়ানোর জন্য জামায়াত নেতারা বাউফলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জামায়াতের সদস্য হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে চিহৃিতদের জামায়াতে ইসলামী পক্ষ অবলম্বন করে তাদের দিয়ে বিএনপি নিধনের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল শাখার নেতাদের প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ দিয়ে বিএনপির ঘরে আগুন জ্বালানো অসম্ভব।
বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা গতকাল (শনিবার) জামায়াতের যে কর্মকাণ্ড দেখেছি তাতে সত্যিই ব্যথিত হয়েছি। আমরা মাসুদ (ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ) ভাইকে পছন্দ করতাম ব্যক্তিগত হিসেবে, উনি সাবলিল একজন বক্তা। কিন্তু গতকালকে আওয়ামী লীগের পক্ষে জামায়াতের অবস্থান দেখে আমরা সত্যিই ব্যথিত। জামায়াত আমাদের প্রতিপক্ষ কখনো ছিল না। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে গণঅভুত্থান হয়েছে, সেই গণঅভুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট সরকারের আওয়ামী প্রেতাত্মারা গুলিবর্ষণ করেছে। আমরা দেখছি জামায়াত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের কড়া নেড়ে তাদের দরজায় লাথি মারছে। বিশেষ করে মাসুদ ভাইয়ের ফেসবুক পেজ থেকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, এতে আমরা সত্যিই ব্যথিত। আমরা এই পোস্টের বিপক্ষে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেখানে যদি জামায়াত স্বৈরাচারকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় সেক্ষেত্র আমাদের আপত্তি আছে। আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে আমাদের নিয়ে যেনো বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা না হয়।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনকদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল, উপজেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহবায়ক মুনিমুল ইসলাম মিরাজ ও বাউফল সরকারী কলেজ ছাত্রদল আহবায়ক আপেল মাহমুদ মুন্না।
বলাবাহুল্য, জামায়াতাের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের কর্মীদের জামায়াতের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বাউফলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে জামায়াতের ৩ নেতাকর্মীকে আহত করেছে। হামলার প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে উপজেলা জামায়াতের বিক্ষোভ।
স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাশেদুল ইসলাম রাসেল বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে যারা বিএনপি ও অঙ্গ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর দমন নিপীড়ন চালিয়েছে তারাই ৫ আগস্টের পর জামায়াতের মদদে স্বরূপে অবস্থান নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বাউফলে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সসস্ত্র অবস্থায় অবতীর্ন হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছিল। বিশেষ করে কনকদিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা মিজানুর রহমান হিরন, আ’লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন হাওলাদার, বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈম আব্দুল্লাহ, আল আমিন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক এর পুত্র ইমাম মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ শাসনামলে বেপরোয়ােভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্ম দেন। জামায়াত ভোটের রাজনীতিতর লক্ষে এইসব পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের কাছে টানছে। তাদেরকে বিএনপির বিরুদ্ধে উস্কানী দিচ্ছে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে বিজয় অর্জিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের পটপরিবর্তনের পরও জুলাই গণহত্যার সহযোগী-উস্কানীদাতা-অর্থের যোগানদাতা স্বৈরাচারের দোসরদের পক্ষে জামায়াতের অবস্থান নেওয়াটা কোনভাবেই কাম্য নয়।
বিএনপি, স্থানীয়সহ বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে কনকদিয়া আমীরাবাদ বাজার লাগোয়া সরকারি পুকুরটি সেখানকার আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ব্যবহার করে আসছিল। এই সরকারি পুকুরের পানি ব্যবহার করাটা সাধারণ নারী-পুরুষের জন্য যেনো নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারের পতন হলেও সরকারি পুকুরটি এখনও আগের সেই আ’লীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে আসছে। এনিয়ে স্থানীয় সাধারণ শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি যেখানে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের আমীরাবাদ বাজারে উঠতে দেয়নি। বিএনপি কর্মীরা বাজারে গেলে তাদের ওপর বর্বর কায়দায় লাঠিসোটা নিয়ে চরাউ হতো আ’লীগের সন্ত্রাসীরা। স্বৈরাচারের পতনের পর সেসব আ’লীগের সন্ত্রাসীরা নতুনরূপে সংঘবদ্ধ হয়ে বীরদর্পে আমীরাবাদ বাজারে অবস্থান নিয়ে বিএনপি বিরোধী নানা ধরণের গোপন মিশনের কার্যক্রম শুরু করে। এরফলে স্থানীয় বিএনপি ও শান্তিপ্রিয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। একপর্যায়ে শনিবার (১৯ অক্টোবর) আ’লীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বিএনপির বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয় হাতাহাতিতে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে জামায়াত নেতারা আ’লীগের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে জামায়াতের সদস্য হিসেবে দাবি করে। এতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আরো উস্কে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল বিএনপির কর্মীরা।
সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের দখল সন্ত্রাসের পক্ষে জামায়াত অবস্থান নিয়ে বিএনপির বিপক্ষে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। জামায়াতের উস্কানী পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে কনকদিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। তারা স্থানীয় বিএনপিকে উল্টো দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দেয়। পাশাপাশি আ’লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপি নিধনে যেনো উঠেপড়ে লেগেছে। খবর পেয়ে শনিবার বাউফল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোববার (২০ অক্টোবর) আমীরাবাদবাজারে ছাত্রলীগ ক্যাডার আল আমিনের দোকানে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রের সন্ধান মিলে। কিন্তু এক্ষেত্রে থানা পুলিশের ভূমিকা নিরব বলে মন্তব্য বিএনপি নেতাদের।
বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বলছেন, গণহত্যার সহযোগী ও দোসররা এখনও বাউফলের বিভিন্ন কাঠামোতে বীরদর্পে বসে আছেন। স্বৈরাচারের দোসররা শুধু বহাল তবিয়তেই নেই বরঞ্চ উল্টো রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের নানাভাবে কৌশলী পন্থায় দমন-নিপীড়ন-নাজেহালের শিকার করা হচ্ছে।
বাউফল থানার ওসি মো: কামাল হোসেন বলেন, কনকদিয়া আমীরাবাদবাজারে অপ্রতিকর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছিল তারা এখনও কিভাবে এলাকায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করে এমন প্রশ্নে ওসি কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোন পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে এখন জামায়াতের সদস্য হিসেবে পরিচয় করা দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাদের ভূমিকা কী ছিল বা তারা কোন দল করতো বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমি স্পষ্ট নই। আর যেহেতু বিএনপি-জামায়াত একই প্লাটফর্মে রাজনীতি করে আসছে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি তারা নিজেরাই সমাঝোতা করার খবর পেয়েছি। ছাত্রলীগ ক্যাডার আল আমিনের দোকানে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রের সন্ধান প্রসঙ্গে বলেন, আসলে দেশীয় অস্ত্র বলতে যা বুঝায় রামদা, চাইনিজ কুরাল এসবের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাউফলে আগামীর সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রার্থী হওয়ার খবর মিলেছে। বাউফলে বিএনপি থেকেও একাধিক নেতা মনোননয়ন প্রত্যাশী। সেক্ষেত্রে বিএনপি এবং জামায়াতের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply