বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের। গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার পতনের পরপরই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। এতে স্বৈরাচার-ফ্যাসীবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেয়া দলের নির্যাতিত কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর পরই জিয়াউদ্দিন সিকদার বরিশাল পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতি দখল করেন। পাশাপাশি একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। যে কমিটিতে জিয়াউদ্দিন সিকদার ছাড়া অন্য সদস্যরা বিগত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। এমনকি আওয়ামী লীগে সক্রিয় সদস্য দিয়ে বাস মালিক সমিতির শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ শাসনামলের শ্রমিক লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক মৃধা রয়েছেন। সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী ছিলেন রাজ্জাক মৃধা । অভিযোগ রয়েছে, জিয়াউদ্দিন সিকদার উপরে উপরে বিএনপি রাজনীতি করলেও গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আঁতাতের রাজনীতি করে আসছে। জিয়াউদ্দিন সিকদার নিজের আখের ঘুচাতে ও অবস্থান ধরে রাখতে রুপাতলী এলাকার আতংক সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কথিত রয়েছে- গত সিটি নির্বাচনে রাতের আধারে সুলতানের পক্ষে বিএনপির ভোটারদের কাছে ভোট চেয়েছিলেন জিয়া।আবার গোপনে আঁতাত করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা সাইদুর রহমান জাকির মোল্লা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মাসুমের সাথে।
রুপাতলী বিএনপি কর্মীদের ভাষ্য, জিয়াউদ্দিন সিকদার নিজের অবস্থান ধরে রাখতে তার শশুর সাবেক বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদকে দিয়ে সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণ করান। ফিরোজ আহম্মেদ নির্বাচনে জয়ীও হয়।
সূত্রগুলো বলছে, জিয়াউদ্দিন সিকদারের আপন চাচা শশুর কাওসার হোসেন শিপন মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক। তিনি ছিলেন সাবেক মেয়ের সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী। এরআগে প্রয়াত মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী। শিপন গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সময় রুপাতলী বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জিয়াউদ্দিন সিকদারের কাছে দলের চাইতে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও যেসব লোকজন তার আশীর্বাদপুষ্ট, তারাই আপন। সে হোক স্বৈরাচারের দোসর তাতে কিছু আসে যায় না।
এদিকে, ৫ আগষ্টের পর থেকে জিয়াউদ্দিন সিকদারের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়রা সকলে বিএনপি বনে গিয়ে ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ডে অবৈধভাবে বালু ভরাটসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।
২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কর্মীরা জানান, বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সময়কালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ, জাকির মোল্লা ও মাসুমের সাথে যারা আ’লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলো, ওই সব আলীগ কর্মী সমর্থকরা এখন জিয়াউদ্দিন সিকদার কাঁধে ভর করছে।
২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কর্মীরা জানান, অত্র ওয়ার্ডের শীর্ষ আ’লীগ নেতা ভুমিদস্যু আনিচ মুহুরীর মেয়ে জামাই ও ভাগ্নে সবুজ, শামিম দীর্ঘ বছর আ’লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত থেকে লালার দিঘি দখল করে মাছ চাষ করেন। পাশাপাশি বিএনপি নেতা কর্মীদের হয়রানি করা হয়। ৫ আগষ্টের পর সবুজ ও তার ছোট ভাই শামিম জিয়ার কাঁধে ভর করে বিএনপির দলীয় প্রোগ্রামের যোগদান করছে। জিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে ১৬ বছর ধরে নির্যাতিত বিএনপি কর্মী সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা জানান, ৫ আগস্টের পর জিয়া শিকদারের কাঁধে ভর করে তার শশুর ফিরোজ আহমেদ ২৪ নং ওয়ার্ডের গ্যাস্টারবাইন খান সড়কের মুখে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখল করে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বানিয়েছেন। বিষয়টি ২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক নুরুজ্জামান দোলন সত্যতা স্বীকার করেছেন।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে সামাজিক এক অনুষ্ঠানে গেলে সেখানের কুশলাদি বিনিময়ের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে একটি চক্র কী বোঝাতে চাইছে? এটা আমার বোধগম্য নয়। ঈদের সময়ে কিংবা কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে এরকম সামাজিক সম্প্রতির বিষয়ে কুশলাদি বিনিময়ের চর্চা বাংলাদেশে অনেক আগ থেকেই চলে আসছে। সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সমাজের সকল অঙ্গনেই চর্চা হয়ে আসছে। রাজনৈতিক শীর্ষ পর্যায়েও সামাজিক সম্প্রীতি বিরাজমান। এটা নিয়ে বিতর্কের কোন সুয়োগ নেই। তিনি বলেন, তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিভিন্ন পন্থায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply