বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : নির্বাচন জরুরি মন্তব্য করে অন্যান্য বিষয়ের দিকে নজর না দিয়ে নির্বাচনের দিকে নজর দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা মনে করি- দ্রুত ইলেকশন কমিশন হোক। এবং ইলেকশন কমিশন অতি দ্রুততার সঙ্গে তাদের কাজটা করবে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটু পরামর্শ করবেন- এটা প্রত্যাশা ছিল। তবে এটাকে বড় ধরনের সমস্যা মনে করছি না।
জাতীয়তাবাদী দলের শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল বলেন, যুদ্ধ শেষ হয় নাই, রাজনীতি ও সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কখনই সংস্কার স্থায়িত্ব হবে না। এটা মাথায় রাখতে হবে। ওপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে কোনো সংস্কার সফল হয় না। আইয়ুব খান ও এরশাদ চেষ্টা করেছিলেন সেটা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি মহসচিব ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই সরকারের ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই, যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি সারা পৃথিবীতে সমাদৃত এবং তিনি বলেছেন- তার কোনো রকমের কোনো রাজনৈতিক ইচ্ছা নেই। সেই কথা ধরে আমি বলতে চাই- সজাগ দৃষ্টি রাখবেন, আপনার সম্মানের জায়গাটা যেন নষ্ট না হয়।
‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলছেন- ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগের লোকেরা। এ জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতায় তাদের বিচার হওয়া উচিত, বড় শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ এরা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করেছে। অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে। কিচ্ছু নাই ভেতরে।’
এ সময় প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রশাসন এখন পর্যন্ত মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না, কেন? আওয়ামী লীগ তাদের (প্রশাসন) যে চরিত্র সৃষ্টি করেছে, সেটা দূর করা যাচ্ছে না, খুঁজে পাওয়া যায় না একটা ভালো লোক। প্রশাসনের মধ্যে ঘুষ খায় না, স্বজন প্রীতি করে না, দুর্নীতি করে এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। শিক্ষক থেকে শুরু করে চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রশাসক বেশির ভাগ জায়গাতে দুর্নীতি। তারা এভাবে ১৫-১৬ বছরের জঞ্জাল সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে তিলে তিলে হত্যা করেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। বড় ক্রিটিক্যাল। এই মুহূর্তে শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো হঠকারিতার কারণে যদি ভুল হয়ে যায় তাহলে আমরা রাষ্ট্র হিসেবে বড় বিপদে পড়ে যাব। কারণ আমাদের বিপদগ্রস্ত করবার জন্য, আমাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কথাগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, অনেক ইস্যু সামনে আসবে। একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে- চক্রান্ত কিন্তু শেষ হয়নি। ফ্যাসিস্টরা তাদের মূল লোক চলে গেলেও তাদের কাঠামো ফ্যাসিস্ট রয়ে গেছে। সেখানে এখনও যারা অবস্থান করছে ও তাদের কাজ করছে। ওই ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও কাঠামোর পরিবর্তন হয় নাই।
সরকার সময়ের সদ্ব্যবহার করবে বলে আশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বিষয়ের দিকে না গিয়ে নজরটা ওই দিকে দেবেন, ইলেকশন (নির্বাচন) এটার কোনো বিকল্প নেই। আমাকে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হলে, জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে এখানে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন করতে হবে। সেই কারণেই কিন্তু এতগুলো প্রাণ গেছে, এত মানুষ দীর্ঘকাল ধরে লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে, কারাগারে গেছে।’
বিগত আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার মামলায় সারা দেশের ৬০ লাখ মানুষকে আসামি করার কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এখানে এমন লোক খুব আছে, যারা কারাগারে যায়নি, এমন লোক কম আছে, যারা মামলা খায়নি। ফাঁসি থেকে শুরু করে হত্যা, গুম, খুন সবকিছু এই দেশে আওয়ামী লীগ করেছে। সেখানে রাতারাতি আমরা সব পরিবর্তন করে ফেলতে পারব না…একটা সময় দিতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে,…টলারেন্স। আমরা আশা করব, অতি দ্রুত এবং তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) অবশ্যই চেষ্টা করছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা যে কিছু করেনি, সেটা তো নয়। ইতিমধ্যে তারা অনেকগুলো কাজ করেছে। সর্বশেষ যেটা করেছে, নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য একটা সার্চ কমিটি করেছে। যদিও আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এই সার্চ কমিটি গঠন করার আগে রাজনৈতিক দলগুলো, অংশীজনদের সঙ্গে একটু পরামর্শ করবে। যা–ই হোক, সেটাকে আমরা বড় ধরনের সমস্যা মনে করছি না। দ্রুত নির্বাচন কমিশন হোক এবং নির্বাচন কমিশন দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, এটা খুব অল্প সময়। এখনো তিন মাস হয়নি। ১৫-১৬ বছরের জঞ্জাল, গণতন্ত্রকে তিলে তিলে হত্যা করা, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’
পাকিস্তান আমল থেকে এ দেশে গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। এটা জোর চাপিয়ে দেওয়া যায় না, এটা চর্চা করতে হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেই দল সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রের কথা বলত আওয়ামী লীগ, তারাই ১৯৭২ সালে গণতন্ত্রকে গলাটিপে ধরেছে। তারপর যখনই সুযোগ পেয়েছে, তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সেই দেশে এত সহজে এত অল্প সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে বলে মনে করেন না মির্জা ফখরুল। তিনি নেতা-কর্মীদের অস্থির না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন। আমি লক্ষ করেছি, অস্থিরতা। এত অস্থির হয়ে তো লাভ নেই। মুহূর্তের মধ্যে সব মানুষকে ভালো করে দিয়ে তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) এখানে এত সুন্দর একটা নির্বাচন দেবে যে আপনারা সবাই খুশি হবেন। আমাদের সময় দিতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার আমরাই তৈরি করেছি। অন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমরা যাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, ছাত্রনেতারা সবাই মিলেই এই সরকার গঠন করেছি। আমরা আশা করছি, সরকার একটা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেননি অতীতে। সেই ভোট দিয়ে তাঁরা নতুন সংসদ তৈরি করবেন। এটা আমাদের প্রত্যাশা এবং এটাই জনগণ চান।’
এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে সভায় জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবদুল হালিম, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply