শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!
কারিকর বিড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা বা দীপাবলি উদযাপিত

কারিকর বিড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা বা দীপাবলি উদযাপিত

কারিকর বিড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা বা দীপাবলি উদযাপিত
কারিকর বিড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা বা দীপাবলি উদযাপিত

ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল নগরীর অমৃত লাল দে সড়কের কারিকর বিড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শ্রীশ্রী শ্যামা (কালী) পূজা বা দীপাবলি উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পূজামণ্ডব ছিল দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কালীপূজা এবং পূজার পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দীপাবলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলে অমৃত লাল দে গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দানবীর, সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী শ্রী বিজয় কৃষ্ণ দে, অমৃত ফুড প্রোডাক্টসের ডিএমডি ভানু লাল দে, অমৃত ফুড প্রোডাক্টসের ডিরেক্টর রাহুদ দে, অমৃত ফুড প্রোডাক্টসের ডিরেক্টর তন্ময় দে , ডা : অমিতাব সরকার, ডা: বিপ্লব কুমার দাস প্রমুখ। এছাড়া অমৃত পরিবারের  সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কার্তিক অমাবস্যা তিথিতে কালীপুজোর রাতে শক্তির আরাধনা হয়। শক্তি ও শান্তির দেবী শ্যামা মায়ের আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে সর্বত্র আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাঙালি সংস্কৃতিতে কালীপূজা ও দীপাবলির উৎসব গুরুত্বপূর্ণ। আলোর এই উৎসবকে বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দীপাবলি বললেও অবাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা একে দিওয়ালি বলে থাকে। এই পুজোকে কোথাও দীপান্বিতা কালীপুজোও বলা হয়। কোথাও আবার মহানিশা নামেও এই কালীপুজোর রাত পরিচিত। কাশীনাথ রচিত ‘শ্যামাসপর্যাবিধি’ গ্রন্থে এই পূজার সর্বপ্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে।
হিন্দু পূরাণ মতে- কালী দেবী দূর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে- শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়।
কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।
কালী পূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। এটিকে বলা হয় দীপাবলী।
দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মন্ডপে মৃন্মময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী- কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এই কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে শ্মশানে মহাধুমধামের মধ্যে দিয়ে শ্মশানকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
বাঙালির আরও এক প্রাণের উৎসব কালীপুজো। গোটা দেশ যেদিন দিওয়ালির আনন্দে মেতে ওঠে, সেদিন কালীপুজোয় মাতোয়ারা থাকে গোটা বাংলা।
বাঙালিদের মধ্যে খুব একটা প্রচলিত না হলেও কালীপুজোর পরের দিনটি অনেক জায়গায় গোবর্ধন পুজো হিসেবে পালিত হয়। এই দিনেই শ্রীকৃষ্ণ গোকূলবাসীকে রক্ষা করতে গিরি গোবর্ধন তাঁর আঙুলের ডগায় তুলেছিলেন বলে মনে করা হয়।
সৃষ্টির আদিতে বিষ্ণু তখন যোগনিদ্রায় ছিলেন। বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার উত্‍পত্তি হয়। এই সময় বিষ্ণুর কর্ণকমল থেকে দুটি দৈত্য জন্ম নেয়। এই দুই দৈত্যের নাম ছিল মধু ও কৈটভ। এই মধু ও কৈটভ ব্রহ্মাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হলে ব্রহ্মা মহাকালীর স্তব শুরু করেন। ভক্তের ডাকে আদ্যাশক্তি মহামায়া থেকে কালীর আবির্ভাব হয়। আবার মার্কন্ডেয় পুরাণে শ্রী শ্রী চন্ডীতে বলছে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই দৈত্যের অত্যাচারে দেবতারা ভয়ে ভীত হয়ে নিজেদের বাঁচাতে জগতকে বাঁচাতে আদ্যাশক্তির আরাধনা করেন। তখন আদ্যাশক্তির দেহকোষ থেকে আবির্ভূতা হন অম্বিকা। তিনি কৃষ্ণবর্ণ হওয়ায় তার অপর নাম কালী।
কোথাও তিনি ভদ্রকালী, কোথাও আবার রক্ষাকালী, কোথাও শ্মশানকালী, আবার কোথাও তিনি শকুন্তলা কালী। এছাড়া ভক্তদের ডাকে তিনি ক্ষ্যাপা কালী, নিশি কালী, ডাকাত কালী, সিদ্ধেশ্বরী কালী, করুণাময়ী কালী রূপে আবির্ভূতা হন এবং পূজিতা হন। দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী, কালীঘাটের মা কালী-সহ ভারতবর্ষ ও গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই তিনি দক্ষিণা কালী রূপে পূজিতা হন। কালীমূর্তি দক্ষিণ পদ মহাদেবের বুকে আগে থাকলে তিনি দক্ষিণা কালী। আর কালীমূর্তির বাম চরণ মহাদেবের বুকে আগে থাকলে বামাকালী রূপে পূজিতা হন। বেদান্তের মুণ্ডক উপনিষদ মা কালীর যে পরিচয় পাওয়া যায় সেখানে করালি মা কালীর অগ্নির লকলকে সাতটি জিহ্বা। তিনি হলেন করুণাময়ী, তাঁর কাছে পক্ষপাতিত্ব নেই, যে তাঁকে আকুল হয়ে ডাকবে, তাকেই রক্ষা করতে দেবী আবির্ভূত হবেন। দেবতা, দৈত্য বা মানুষ যিনিই তাঁর শরণ নেবেন, তাঁকেই রক্ষা করবেন মহামায়া। তাঁকে ঘিরে অনেক লোককথাও প্রচলিত।
এদিকে, বরিশাল নগরীর অন্যান্য মন্ডবেও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শ্রীশ্রী শ্যামা (কালী) পূজা বা দীপাবলি উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নগরীর পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana