বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশালে বিভিন্ন রূপে ফিরে আসছে স্বৈরাচারের দোসররা। গত শাসনামলে যারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ব্যানারে থেকে সুবিধা ভোগ করেছে, তারাই যেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে স্বরূপে ফিরছে। ছাত্র-জনতার রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট বিজয় অর্জিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের পটপরিবর্তনের পর আঁতাতের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হচ্ছে পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা বা দোসররা। বলাবাহুল্য : জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সহযোগী আওয়া লীগের দোসরদের পুনর্বাসনে সমঝোতার রাজনীতি মেনে নেয়া হবে না, এরকম সতর্কবার্তা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বরিশাল নগরীতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সঙ্গে গোপন বুনিবনায় আতাঁতের রাজনীতির বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। গত ১৫ বছরে বিভিন্নভাবে প্রভাববিস্তার ও সুবিধাভোগীরা কৌশলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে অনুপ্রবেশ করছে। মিছিল-সমাবেশেও এদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্থানীয়সহ বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য, বরিশাল নগরীর কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় ইমন-ইশান দুই সহোদরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। নগরীর ১ নং ওয়ার্ডের পার্সপোর্ট গলির চাকরকান্দার বাসিন্দা খোকন হাওলাদারের পুত্র ইমন ও ইশান। এরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহুল বিতর্কিত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খানের ছত্রছায়ায় থেকে কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ নানা ধরণের অপরাধে জড়িত ছিলো। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এরা ভোল পাল্টিয়ে নতুনরূপে আগেরমতোই অপকর্ম করতে ছাত্রদলের ব্যানারে অবস্থান নেয়। নিজেদেরকে ছাত্রদলের নেতা দাবি করে এলাকায় ত্রাসের রাম রাজত্ব নতুনরূপে শুরু করেছে।
স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রী শাবানা সহ বেশ কয়েকজন ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনেরমুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইমন-ইশান সংঘবদ্ধ চক্রটি আরজুমনি স্কুলের সামনে সরকারি সম্পত্তি দখল করে অপরাধমূলক কার্যক্রম করতে ক্লাব গড়ে তোলে। ওই ক্লাব ঘর উঠানোর সময় স্থানীয় সচেতনমহল বাঁধা প্রদান করলে তাদেরও হুমকি-ধামকি প্রদান করে। এই সন্ত্রাসী চক্রের কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরণের অন্যায় অপকর্ম বেড়েই চলছে। এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষ এই চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। কেউ এদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে উল্টো প্রতিবাদকারীকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত সহ নানানভাবে হেনস্থা করে। দিনে দিনে এরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। এমনকি স্কুল কলেজগামী ছাত্রীদেরও যৌন হয়রানি করে আসছে।
সূত্রের ভাষ্য, মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো এই ইমন চক্রটি গত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছাত্রলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ছিল। কখনো রইস আহমেদ মান্নার ক্যাডার, কখনো খান হাবিবের ক্যাডার হিসেবে কাজ করতো। বিশেষ করে অসংখ্য অন্যায়-অপকর্মের হোতা স্বৈরাচারের দোসর জেলা ছাত্র লীগ নেতা রাজিব হোসেন খানের সহযোগি হিসেবেও কাজ করতো তারা। এরাই আবার ৫ আগস্টের পর জেলা ছাত্রদল নেতা তৌফিকুল ইসলাম ইমরানের আর্শিবাদপুষ্ট বনে যান।
ছাত্রদল নেতা তৌফিকুল ইসলাম ইমরান ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, ইমন ছাত্রদলের রাজনীতি করে। তিনি বলেন, কোন প্রমাণ লাগবে? ছাত্রদলের কোন পদে আছেন কিনা এরকম প্রশ্নে বলেন- না, কোন পদে নেই। গত আওয়ামী লীগের শাসনামলে স্বৈরাচারের দোসর রাজিব হোসেন খানের সঙ্গে ইমনের ঘনিষ্ঠতার বিষয় জানতে চাইলে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন ছাত্রদল নেতা ইমরান। তিনি এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন কেন? ইমনকে জিজ্ঞাসা করেন। এসব আপনার রাজনৈতিক বক্তব্য নাকি ব্যক্তিগত বক্তব্য জানতে চাইলে ইমরান বলেন, আপনি যেটা মনে করেন।
পতিত স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত বরিশাল নগরীতে একাধিক নেতার ঘনিষ্ঠজন বনে যাওয়া ইমন সেলফোনে ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমি মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে নানা কায়দায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্বৈরাচারের দোসর বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ সহচর প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের উদয়ন স্কুলের ক্যাপ্টেন ছিলেন রাজিব। সেই থেকে তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। আর সম্পর্কটা গভীরে হওয়ায় তাকে ফুল দিয়েছিলাম। এটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক নয়। তিনি বলেন, আমি ছাত্রদলকে ভালোবাসি। অবশ্য আমি কোন পদে নেই। আরজুমনি স্কুল লাগোয়া ক্লাব ঘর উঠানো প্রসঙ্গে ইমন বলেন, ওটা ক্লাব ঘর নয়। আমি সেখানে বালুর ব্যবসা করি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply