বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল নগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘ঢাকার এক মেয়র দম্ভ করে বলেছিলেন, তাঁর মামাতো ভাই চাইলে বরিশালের গণসমাবেশ সাফা করে দিতে পারেন।’ কিন্তু সেইটা কি অইছে? নেতৃবৃন্দ বলেন, মামাতো-ফুফাতো ভাইদের দিয়ে কিছু হবে না ধানের শীষের এই বরিশালে। বলেন, চাচাতো, মামাতো, খালাতো ভাইয়ের খাওন বরিশালে নাই। তাদের কথা শোনার টাইম নাই বরিশালে।
বিভাগীয় গণসমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেছেন, ‘ঢাকার এক মেয়র দম্ভ করে বলেছিলেন, তাঁর মামাতো ভাই চাইলে বরিশালের গণসমাবেশ সাফা করে দিতে পারেন।’ সেই বিষয়টি উল্লেখ করে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘সেইটা কি অইছে?’ উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে ‘না’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘সেই দিন আর নাই, তা আর হইব না।’
বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্কে) বিভাগীয় মহা সমাবেশে বলেছেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেছেন, আমাদের দেশে তো ধান উৎপাদন হয়। তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চালের দাম বাড়বে কেন? এ সরকার থাকলে অদূর ভবিষ্যতে চাল ও গমের দাম সেঞ্চুরি করবে।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনার জেলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, প্রস্তুতি নিয়েন। চাচাতো, মামাতো, খালাতো ভাইয়ের খাওন বরিশালে নাই। তাদের কথা শোনার টাইম নাই বরিশালে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল বলেন, দিনের ভোট রাতে করা যায়। কিন্তু এভাবে জনসমুদ্রে পরিণত করা যায় না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে এক সময় করোনাকে দায়ী করেছে সরকার। আবার রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। ডিমের দাম দোকানভেদে ১৫ টাকা আপ-ডাউন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডিমের দাম বাড়বে কেন? ফার্ম তো আমাদের দেশেই আছে।
অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, মামলা-হামলা, গুম, হত্যা, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির অপর যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, প্রত্যেকটি জিনিসের পয়েন্টে পয়েন্টে হিসাব করা হবে। জনগণের আদালতে সবকিছুর বিচার হবে। আমার মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এ আন্দোলন সফল হবে বলে তিনি দাবি করেন।
বিভাগীয় গণসমাবেশে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেছেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পালিয়ে যাননি, বরিশালের মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করে, যার প্রমাণ এই মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশে জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে বরিশাল খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ঘাঁটি, ধানের শীষের ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ সভাপতিকে উদেশ্য করে বিলকিস জাহান বলেন, আপনার মামাতো-ফুফাতো ভাইদের দিয়ে কিছু হবে না ধানের শীষের এই বরিশালে। তাদের মতো আমরা রাতের আঁধারে পালিয়ে যাবো না। এই মহাসমাবেশ দেখুন, পায়ে হেঁটে মানুষ চলে এসেছে। এখন কী করবেন, বাধা দিয়ে তো কোনো লাভ হলো না।
শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির সাবেক মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের উদ্দেশে ঢাকা থেকে গাড়িবহর নিয়ে রওনা হন। পথে পথে ব্যাপক বাধার শিকার হন। একসময়, গাড়িবহরটি বরিশালের কাছাকাছি গৌরনদী পৌঁছালে সেখানে হামলা করা হয়। এতে ইশরাক হোসেন অক্ষত থাকলেও ভাঙচুর করা হয় তার পেছনে থাকা তারই বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি। এ সময় সেসব গাড়িতে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সরকারকে ভীত করেছে। জোয়ার আটকাতে না পেরে সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ দিয়ে বাধার সৃষ্টি করছে, কাপুরুষের মতো রাতের আধারে গাড়িবহরে চোরাগোপ্তা হামলা করে পালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীদের মনে ভীতি সঞ্চারের অপচেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা দমে যাবার পাত্র নই। সব বাধা মোকাবিলা করে ঠিকই সমাবেশস্থলে এগিয়ে যাচ্ছি। যত হামলাই করুক না কেন, কোনো বাধাই এবার বিএনপি নেতাকর্মীদের দমাতে পারবে না।
সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সমাবেশের প্রধান বক্তা। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সভামঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ইশরাক হোসেন, সুলতান সালাহ উদ্দীনসহ জেলা নেতারা।
এদিকে, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শনিবার বেলা ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত বিপুল সংখ্যক জনতার চাপে ১১টায় এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গণসমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যান সকাল ৮টার মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply