বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : গাজীপুরে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মাওলানা সাদ ও জুবায়ের পন্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইজতেমার ময়দান। এতে উভয় পক্ষের ৪ মুসল্লি নিহত হন। আহত হয়েছেন শতাধিক। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোরে ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের ছাউনীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- জুবায়ের পন্থী সাথী মো. আমিনুল ইসলাম বাচ্চু তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকায়। নিহত অপরজন সাদপন্থী সাথী তাইজুল ইসলাম। তার বাড়ি বগুড়া জেলায় এবং তৃতীয়জন হলেন বেলাল (৬০)। আগে থেকে ইজতেমা মাঠে অবস্থান করছিলেন জুবায়েরপন্থি। পরে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে মাঠে প্রবেশ করেন সাদপন্থীরাও। এ সময় ভেতরে থাকা জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় সাদপন্থীরা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হুশিঁয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমার আগে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা করার জন্য সাদ অনুসারী মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। আর সাদপন্থীরা যেন ইজমেতা ময়দানে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আগে থেকেই ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছিল জুবায়ের পন্থীরা মুসল্লিরা। আর ইজতেমা ময়দানের পশ্চিমে নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থান করছিল সাদ অনুসারী মুসল্লিরা। গতকাল বুধবার রাত তিনটার পর মাওলানা সাদ অনুসারীরা শতশত মুসল্লি কামারপাড়া ব্রিজ পার হয়ে ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের গেট দিয়ে ময়দানে প্রবেশ করে। এসময় ইজতেমা ময়দানের ফটকে পাহারায় থাকা জুবায়ের অনুসারীরা তাদের মারধর করে ফটক খুলে ময়দানে প্রবেশ করে সাদপন্থী মুসল্লিরা। এ সময় ময়দানের বিভিন্ন স্থানে ঘুমিয়ে থাকা জুবায়েরপন্থী মুসল্লিদের হামলা চালায় মাওলানা সাদ অনুসারী মুসল্লিরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কিছু মুসল্লি আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লা মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) মাওলানা জুবায়ের অনুসারী মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ‘বুধবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বেলা ১২টায় তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করার কথা এবং সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত জানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিসসহ কয়েকজন সমন্বয়ক রাতে আড়াইটায় কাকারাইল মসজিদে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন কিভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়। একটু পরেই খবর আসে সাদপন্থীরা আশেপাশ থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ভাড়া করে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের নতুন, পুরাতন সমস্ত সাথী জমা করে টঙ্গী ময়দানের ফরেনটেন্ট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। সাদপন্থীরা যখন কোনোভাবেই প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত পাচ্ছে না দেখে তখন মাঠে ইজতেমার কাজে নিয়োজিত ঘুমন্ত তাবলীগের সাথীদের উপর রাত ৪টার দিকে হামলা চালায়। এতে প্রচুর সাথী আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মো. আমিনুল ইসলাম বাচ্চু নামে আমাদের একজন সাথী নিহত হন। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ দাওয়াত ও তাবলীগের সাথী ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পূর্বে আরও একজন মারা যান।’
বিশ্ব ইজতেমার মাওলানা সাদ অনুসারী মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সাথীরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাইজুল ইসলাম নামে এক সাথী নিহত হন।’ অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সাথীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। জেলায় জেলায় প্রশাসনের লোক তাদের সাথীদের বহনকারী গাড়ি আটকে দিচ্ছে ও ফেরত পাঠাচ্ছে।’
এদিকে, ইজতেমা মাঠে হামলা ও সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এ ঘটনায় মামলা হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, মামলার পর জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মাওলানা জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রগুলো বলছে, গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-টঙ্গী বিভাগ) এন এম নাসিরুদ্দিন বুধবার বেলা দুইটার দিকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছি।’
অবশ্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মো. মামুনুল হক উল্লেখ করেছেন, নিহত হয়েছেন চারজন। তিনি বলেছেন, এটা সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ঘটনা নয়। সাদপন্থীরা হামলা করে চারজনকে হত্যা করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও উল্লেখ করেন, নিহত হয়েছেন চারজন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
সাদপন্থীরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা দুই পক্ষ যদি আলোচনা করে সমাধান করতে পারে, তাহলে সাদপন্থীরা ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। ইজতেমার তারিখ সরকার বাতিল করেনি। তারা আলোচনা করুক।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply