বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : রাজধানী ঢাকার কেরাণীগঞ্জে রূপালী ব্যাংকে হানা দেওয়া ডাকাতরা সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর আত্মসমর্পণ করেছেন। একইসঙ্গে জিম্মিদশা থেকে অক্ষত অবস্থায় মুক্ত হয়েছে গ্রাহক-কর্মীদের সবাই। র্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, “রূপালী ব্যাংকে ঢুকে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা তিন ডাকাত ৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তাদেরকে কেরাণীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কেরাণীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় রূপালী ব্যাংকের জিনজিরা শাখায় হানা দেয় একদল সশস্ত্র ডাকাত। তাতে ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মী মিলে ১৬ জন ভেতরে জিম্মি দশায় পড়েন। বিকাল সাড়ে ৫টায় তিন ডাকাত আত্মসমর্পণ করে জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা তাপস কর্মকার বলেন, “ভেতরে ১৬ জন জিম্মি ছিলেন, যাদের মধ্যে চারজন ব্যাংক কর্মকর্তা আর বাকি ১২ জন গ্রাহক। প্রত্যেকেই অক্ষত রয়েছেন। বিনা রক্তপাতে তিন ডাকাতকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।” ডাকাতদের আত্মসমর্পণের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমে আমরা তাদের সঙ্গে আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তাব দিই। নেগোসিয়েশনের এক পর্যায়ে তারা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণের জন্য রাজি হন। “তবে বিক্ষুব্ধ জনতার কাছ থেকে নিরাপদে তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেই অনুযায়ী, তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে কেরাণীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন জন ডাকাত ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পাশের একটি মসজিদ থেকে মাইকিং করে ব্যাংকে ডাকাতির কথা জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতরা চিরকুটের মাধ্যমে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়েছিল। সেই নম্বরে ডাকাতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ডাকাতদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ডাকাতদের বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি। এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ডাকাত সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সময় র্যাব-১০ এর সিও ও অতিরিক্ত ডিআইজি খালিদুল হাওলাদার বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ব্যাংকের ভেতরে গিয়ে আমরা ডাকাত সদস্যদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। পরে আমাদের কথায় সাড়া দিয়ে ভেতরে থাকা তিনজন ডাকাত সদস্য দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে।’
ডাকাতির ঘটনায় মোট কতজন ডাকাত সদস্য ছিল, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি খালিদুল হাওলাদার বলেন, ‘ব্যাংকের ভেতরে জিম্মি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই ভালো আছেন। কোনও ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ব্যাংকের ভেতরে তিনজন ডাকাত সদস্য ঢুকেছিল এবং তাদের আরও কিছু সদস্য ব্যাংকের বাইরে ছিল। তবে তাদের শনাক্ত করা যায়নি।’
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “তিন ডাকাত আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।”
পুলিশের কেরাণীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডাকাত পড়ার খবর পেয়ে প্রথমে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ব্যাংকের গেইটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ব্যাংকের ওই শাখার চারপাশে অবস্থান নেয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে ডাকাতদের আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা চালান।
ব্যাংকে ডাকাত দলের হানা দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করে। ব্যাংকের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা তাদের বার বার দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পাশের একটি মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত দলকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে যাতে ব্যাংকের ভেতরে অভিযান চালানো যায়, সেই প্রস্তুতিও নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply