বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে এককভাবে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে বারণ করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সবাইকে নিয়ে করতে না পারলে জুলাই ঘোষণাপত্রের দরকার নেই বলে শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন। জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের প্রস্তুতির অংশ বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সর্বদলীয় বৈঠকেপ্রধান উপদেষ্টা বলেন, “মাঝে একদিন ছাত্ররা এসে বলল যে তারা একটা ঘোষণা দেবে। প্রক্লেমেশন করবে। আমাকেও সেখানে থাকতে হবে।
“আমি বুঝতে চাইলাম কী প্রোক্লেমেশন দিচ্ছে। তারা আমাকে বলল। আমি বললাম, এটা হবে না। এটা আমার চাওয়াটাও ঠিক হবে না, তোমাদেরও করাটা ঠিক হবে না।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা যদি ৫ আগস্ট ফিরে যেতে চাও, তাহলে সেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে যা হয়েছিল, সেটা রিক্রিয়েট করতে হবে। এটা একা করা যাবে না।” তিনি বলেন, “ওই দিনের (৫ আগস্ট) পুরো অনুভূতিই ছিল এক হওয়ার অনুভূতি। কেউ বলে নাই, তুমি অমুক, তুমি তমুক। “কাজেই তোমরা যদি করতে চাও, সবাইকে নিয়ে করতে হবে; এটা স্পষ্ট। এটা ছাড়া করাটা ঠিক হবে না। যে একতা দিয়ে তোমরা ৫ আগস্ট সৃষ্টি করেছিলে, সেটার অবমাননা হবে।”
ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থান নিয়ে ঘোষণাপত্র তৈরির অংশ হিসেবে সর্বদলীয় এ বৈঠক আয়োজনের কথা মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা দেরিতে পৌঁছানোয় তা শুরু হয় বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বৈঠকস্থলে উপস্থিত হন বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। বরাবরের মত অন্তর্বর্তী সরকারের এই সংলাপে ডাক পায়নি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি।
স্বাগত বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হলে, বসতে পারলে আমার খুব ভালো লাগে; মনে সাহস পাই। কারণটা স্পষ্ট। কারণ এই সরকারের জন্ম হয়েছে ঐক্যের মাঝখানে। ঐক্যের দ্বারা এটা সৃষ্টি।
“যখন আমরা নিজেরা নিজেরা কাজ করি, হঠাৎ দেখি একা পড়ে গেছি; আশপাশে কেউ নাই। তখন একটু দুর্বল মনে করি। যখন আপনার আবার সবাই একসঙ্গে হোন, মনের মধ্যে সাহস আসে যে একতাবদ্ধ আছি।”
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশের ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।
গত ২৯ ডিসেম্বর ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনে তারা। বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ওই ঘোষণাপত্র প্রকাশের কর্মসূচিও দেয় তারা।
এ বিষয়ে ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নাৎসি বাহিনীর মত অপ্রাসঙ্গিক এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানের ‘কবর’ রচনা করা হবে।”
প্রথমে সরকার এর সঙ্গে যুক্ত না হলেও পরে সরকারের তরফ থেকেই ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে আরও আলোচনা হবে। কাজটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য কমিটিও গঠন করা হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত একটি কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। এই ঘোষণাপত্রের খসড়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকের পর আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বিষয়টি নিয়ে সরকারের এই অবস্থান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণতন্ত্র মঞ্চ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
বৈঠকের আলোচনা নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়নের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। সবাই বলেছেন, এ ধরনের একটা ঘোষণাপত্র করার দরকার আছে। তবে এখানে অনেক সাজেশন (পরামর্শ) এসেছে। মোটাদাগে হলো ঘোষণাপত্রে সবার অবদান বলতে হবে, ধারাবাহিকতা উল্লেখ করতে হবে। ঘোষণাপত্রের রাজনৈতিক বা আইনি প্রকৃতি কী হবে, সেটা স্পষ্ট করতে হবে।
আরও বেশি আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি ও ছাত্র-জনতা সবার মধ্যে আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘এটার জন্য যতটা সময় লাগা প্রয়োজন, ততটা সময় নেওয়া যেতে পারে। তবে অযথা কালবিলম্ব বা সময়ক্ষেপণ যেন না হয়। সবাই একমত পোষণ করেছে, সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে আরও নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের ঘোষণাপত্র হওয়া উচিত।’
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply