বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ, সাংগঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার পরিচিতি হলেও বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে তিনি রেখে যান এমন কিছু কীর্তি, যা তাকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত। এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ছিল দুঃসাহসিক ভূমিকা। শেখ মুজিব বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে এদেশের গণতন্ত্র কে যখন হত্যা করে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল তখন জিয়াউর রহমানই আলোর বর্তিকা হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রাহমান রেখে গেছেন সততা ও দেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত। এই সততা ও দেশপ্রেমের কারণেই শহীদ জিয়া এদেশের মানুষের প্রিয় নেতা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন আপদ মস্তক সৎ ও দেশ প্রেমিক রাষ্ট্র নায়ক।
জনবান্ধ নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক চাহিদার বাস্তবায়ন। কিন্তু স্বাধীনতার পর যখন দেশবাসী দেখতে পেল, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি সোনার হরিণ নামের গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করা হয়েছে, তখন জিয়াউর রহমানের হাতেই ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধির অধীনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করার সুযোগ পেল। সেই কারণেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছেন। জাতির মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে তাদেরকে জাগিয়ে তুলতে তিনি সফল হয়েছিলেন। তার স্বল্পকালীন শাসনকার্য পরিচালনায় তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন আজ ও তার সমকক্ষ কেউ হতে পারেনি। এমনকি তার রাজনৈতিক বিরোধী ও কট্টর সমালোচকরাও শাহাদাতের পর তার সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ কারণেই এ দেশের জনগণের অন্তরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।ব্রিটেনের বিশ্বখ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘আয়রন লেডি’ নামে খ্যাত ব্যারোনেস মার্গারেট থ্যাচার তাঁর মৃত্যুর আগে অনুরোধ রেখে গিয়েছিলেন যেন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্কটল্যান্ডের দেশপ্রেমিক কবি রবার্ট বার্নসের একটি গান পরিবেশিত হয়। সেটি ছিল, ‘আই প্লেজ টু দ্য, মাই কান্ট্রি’। অর্থাৎ ‘হে আমার দেশ, আমি তোমার কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হলাম’। বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতির কাছে সেভাবেই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁর প্রিয় গান ছিল, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ/জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ’। এ গানটি তাঁকে উদ্বুদ্ধ করত। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যেন সমগ্র জাতিও এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সেবায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রয়াত মোহাম্মদ আবদুল গফুর তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন- ‘যারা সারাজীবন কোনো দিন ক্ষমতা পাওয়ার কথা ভাবেননি, কেবল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে গেছেন, তাদের চোখেও জিয়া ছিলেন নায়ক। যেমন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। তিনি জিয়াউর রহমানকে সীমাহীন মূল্য দিতেন। মওলানা ভাসানী অনেক সময় তার নিজের দলের লোকদের বিরুদ্ধে কথা বললেও জিয়াউর রহমান সম্বন্ধে কোনোদিন সমালোচনা করেননি। আমি নিজে একবার মওলানা ভাসানীকে এ বিষয়ে বলেছিলাম, হুজুর, আপনি অনেক সময় নিজের দলের লোকদের সমালোচনা করেন, কিন্তু আপনাকে কখনও জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করতে দেখিনি, এর কারণ কী? মওলানা সাহেব বলেন, দেখ আবদুল গফুর, তুমি তো রাজনীতি দেখছো অনেক দিন ধরে, আর আমি দেখছি তোমার চেয়েও বেশিদিন ধরে। তুমি আমাকে এমন একজন লোকের নাম বলো, যে জিয়ার মতো সৎ, নির্দোষ ও দেশপ্রেমিক। সত্যই মওলানা ভাসানীর একথার মধ্যে এতটুকু অতিরঞ্জিত কিছু নেই। মানুষ হিসেবে জিয়ার সততা ছিল তুলনাহীন। দেশকে, দেশের মানুষকে জিয়া কত ভালোবাসতেন, তার তুলনা ছিল না। জিয়া রাজনীতি করেছেন, তবে তার রাজনীতির মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না সম্পদ গড়ে তোলার চিন্তা। একারণে দেশের মানুষও তাকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসতো।
রাজনীতিক আবু নাসের ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, জিয়াউর রহমান যে শুধু বাংলাদেশের জনগণের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছিলেন, তাই নয়, বহির্বিশ্বেও একজন শান্তিকামী ন্যায়পরায়ন নেতা হিসেবে তার সুনাম ছিল। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে। একথা যে কোনো রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের স্মরণে থাকার কথা, মুসলিম বিশ্বের দু’টি দেশ ইরান ও ইরাক অতীতে যখন পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবর্গ জিয়াউর রহমানের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেন যুদ্ধের অবসান ঘটাবার জন্য। মুসলিম বিশ্বের নেতৃবর্গের নিকট জিয়াউর রহমান কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পেরেছিলেন যে, তার ওপর এত বড় দায়িত্ব দিতে একমত হতে পেরেছিলেন, সেটা ভাবলেও অবাক হতে হয়। মোট কথা, জিয়াউর রহমান যে ক্ষেত্রেই হাত দিয়েছেন, কী যুদ্ধক্ষেত্রে, কী দেশের কর্ণধার হিসাবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে, কী দেশের উন্নয়নে সর্বত্রই তিনি সাফল্যের উচ্চতম শীর্ষে উঠে দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি যেমন অন্য কারও তুলনায় পিছিয়ে নন, তেমনি তার দেশও অন্য কোনো দেশ হতে পিছিয়ে নয়। তার সময়েই বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে জাপানের মতো শক্তিধর দেশকে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ লাভ করে। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মহান মুক্তির সনদ ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং এই ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি গঠন করেন। দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন ছিল, তিনি সেই সময়টুকু পাননি। যারা এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অপছন্দ করত, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষা করত, এদেশ বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক যারা তা চাইত না, সেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর ইশারায় কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তারা এদেশের প্রাণপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে হত্যা করল।রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাতের পর ১৯৮১ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট আয়োজিত এক সভায় তাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কমনওয়েলথের তদানীন্তন মহাসচিব স্যার সিদ্ধার্থ রামফাল বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়া বাংলাদেশে শুধু একদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই প্রতিষ্ঠা করেননি; এ উন্নয়নকর্মী দেশকে সার্বিক উন্নয়নের রাজপথে পরিচালিত করেছিলেন।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ‘সার্ক’-এর মাধ্যমে ঐক্যের বন্ধনে গ্রথিত করা ছিল তার এক স্বপ্ন। রাষ্ট্রপতি জিয়ার অকালমৃত্যুতে তাঁর দেশ একজন দক্ষ, সৎ সংগঠক ও সফল রাষ্ট্রনায়ককেই শুধু হারাল না, দক্ষিণ এশিয়া হারাল এক দূরদর্শী স্বাপ্নিক অগ্রপথিককে, উন্নয়নশীল দেশ-গোষ্ঠী হারাল এক সৃষ্টিধর্মী নেতা, কমনওয়েলথ হারাল সৌভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতায় বিশ্বাসী এক মহান ব্যক্তিত্বকে।
রাজনীতিবিদ আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন এক সামরিক অভ্যুত্থানে। তার মৃত্যুতে দলটি নেতৃত্বশূন্য হয়। সেসময় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। ঠিক এসময়ই বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব নেন। ১৯৮১ সাল থেকে একদিকে দল গোছানো অন্যদিকে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দেন। সেসময়ের সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে যুগপথ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার যে পথ সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান বেগম খালেদা জিয়া সেই পথ ধরেই এগিয়ে নেন বিএনপিকে। তার নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ১৯৯০ সালে পতন হয় স্বৈর শাসক এরশাদের। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয়ী হয় এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে এক চুল ছাড় দেননি। কোনো ভয় বা লোভের কাছে মাথা নিচু করেননি।
গঠনমূলক রাজনীতিবিদ আবু নাসের ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, জিয়াউর রহমান সততা ও দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক কালজয়ী মহান নেতা। একটি জাতি গঠন ও দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন সততা ও দেশপ্রেমিক নেতাই যথেষ্ট। আমরা মনে করি জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী। জিয়াউর রহমান আজ বেঁচে নেই, কিন্তু আছে তার রেখে যাওয়া ১৯ দফা কর্মসূচি, বেগম খালেদা জিয়ার ২৭ দফা এবং সর্বশেষ জনাব তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রুপরেখা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন, তার সততা, দেশপ্রেম, জনগণের ভালোবাসা, তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি। আরও আছে তার যোগ্য উত্তরসূরি ও তার সহধর্মিণী সাবেক তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন, জনগণের আপসহীন নেত্রী এদেশের গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি জিয়ার সুযোগ্যা ও স্বার্থক উত্তসুরী, তারুণ্যের অহংকার, এ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক জনাব তারেক রহমান। এই তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আগামী দিনে দেশপ্রেমিক জিয়ার সব আদর্শ, ভাবনা, চিন্তা ও উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, যা শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল।

এদিকে, রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গনে দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেম ছিল সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে ও ঈর্ষণীয়। যিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির চরম অধঃপতনের সময় মহান দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন।এবং দেশকে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছেন। জাতির মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে তাদেরকে জাগিয়ে তুলতে তিনি সফল হয়েছিলেন। তার স্বল্পকালীন শাসনকার্য পরিচালনায় তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন আজ ও তার সমকক্ষ কেউ হতে পারেনি। জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বার বার পরাজিত হয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত: যেখানেই শেখ মুজিব ব্যর্থ হয়েছেন সেখানেই জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন।
দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি’র ১ নং সদস্য আবু নাসের বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। পাকিস্তানিদের চাকুরী করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশকে রক্ষায় স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান পালিয়ে যাননি। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বীর উত্তমের খেতাবপ্রাপ্তও হয়েছিলেন তিনি।
রাজনীতিবিদ আবু নাসের বলেন, লক্ষ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। এরপর ফিরিয়ে আনা হলো শেখ মুজিবর রহমানকে। তিনি এসে স্বাধীনতা রক্ষার পরিবর্তে কন্ঠ চেপে ধরলেন সাধারণ মানুষের। তার ঘরোনার ৪ টি পত্রিকা বাদে সব জাতীয় ও স্থানীয় সব পত্রিকা বন্ধ করে দেন। বাকস্বাধীনতা হরণ করেন শেখ মুজিব। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা ছিল বাকস্বাধীনতা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্ত শেখ মুজিবের শাসনামলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে পতিত হয় দেশ। বাংলাদেশকে ভিখারীর দেশে পরিণত করেছিলেন শেখ মুজিব। দীর্ঘ ৩ বছর অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে মানুষদের। এর প্রতিবাদ যাতে কেউ না করতে পারে এজন্য গঠন করলেন বাকশাল। ধর্মীয় সহ সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন তিনি। এরপর বাকশালে আজীবন শেখ মুজিব দেশ পরিচালনা করবেন বলে অবৈধ ও জোর করে আইন পাশ করেন।
ফুঁসে ওঠে দেশের মানুষ। ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক পট পরিবর্তনের পর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশ ও দেশের মানুষের প্রয়োজনে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মাত্র ৩ মাসের মাথায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হয় দেশ। এরফলে দূর হয়ে যায় দুর্ভিক্ষ।
দলের মধ্যে সাংগঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত আবু নাসের বলেন, শেখ মুজিবের মেয়ে হাসিনা দেশে ফেরেন ১৯৭১ সালের ১৭ মে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেশে বৈধকরণে আবেদন করেন। জিয়াউর রহমান সেই আবেদন গ্রহণ করে তাদের রাজনীতির বৈধতা ফিরিয়ে দেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির পুনর্জন্মদাতা হলেন জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনা দেশে আসার মাত্র ১১ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমানকে নৃসংশভাবে খুন করা হয়। এরপর হাসিনা বোরকা পড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়। এতে প্রমাণিত ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কারা করে?
তুখোর বক্তা আবু নাসের বলেন, সারাদেশে যখন সব রাজনৈতিক দলের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন হচ্ছিল তখন শেখ হাসিনা একটি সভায় ঘোষণা দিয়েছিল, যারা নির্বাচনে অংশ নিবে তারা জাতীয় বেইমান। আর সেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় বেইমানের পরিচয় দিয়েছিল। সেই দিন থেকে খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকেন। বারবার জয়লাভ করেন খালেদা জিয়া।
লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরণের হয়রানি করেছেন। এমনকি তার প্রাণ কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। আজকে হাসিনা ও তার দোসররা পালিয়েছে। কিন্ত খালেদা জিয়া সন্মানিত হয়েছেন।
যেখানে শেখ মুজিব ব্যর্থ হয়েছেন সেখানে বার বার বিজয়ী হয়েছেন জিয়াউর রহমান। আর হাসিনা বেইমান হয়েছে অন্যদিকে খালেদা জিয়া হয়েছেন সন্মানিত। সন্মানের সাথে সেনাবাহিনীর আমন্ত্রণে প্রধান অতিথি হিসেবে সেনাকুঞ্জে গিয়েছেন খালেদা জিয়া। সন্মানের সাথে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন তিনি ।
দলের কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্দেশনা অনুযায়ী লড়াই সংগ্রাম করেছি। তার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। তিনি দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়নে ৩১ দফা কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে রুপান্তরিত হবে বাংলাদেশ। এজন্য তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুস সালাম রাড়ীর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য আলহাজ্ব নুরুল আমিন, চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ইয়াছিন সিকদার চুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন আকন, যুগ্ন আহবায়ক রফিকুল ইসলাম ঘরামীসহ ইউনিয়ন বিএনপি’র অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply