বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রশিবিরের উপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করবে বলে মনে করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এছাড়া ক্যান্টিনটির প্রতিষ্ঠাতা স্বত্বাধিকারী মধুসূদন দে’র (মধুদা) হত্যাকাণ্ডের নৈতিক দায় ছাত্রশিবিরের নিতে হবে বলে এক বিবৃতিতে বলেছে ছাত্রদল। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিবৃতিতে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রশিবির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মধুসূদন দে এবং তার পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদল বলছে, অনুতাপ এবং বিবেকবোধ থেকেই ছাত্রশিবিরের মধুর ক্যান্টিনে আসা উচিত নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রসংঘ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা নেয়। শহীদ মধুদা’র হত্যাকাণ্ডের নৈতিক দায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ পরবর্তীতে ‘ছাত্রশিবির’ কে নিতে হবে।”
ছাত্রদলের ভাষ্য, “স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শহীদ মধু এবং তার পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক।”
এর আগে ভিন্ন আরেকটি বিবৃতিতে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের বলেছেন, “শহীদের নিজের আঙিনায় খুনির সহযোগীদের বিচরণ ন্যাক্কারজনক ঘটনা। অনুতাপ ও বিবেকবোধ থেকেই ছাত্রশিবিরের মধুর ক্যান্টিনে আসা উচিত নয়।”
এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রশিবিরের নেতারা। সেখানে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি বলে দাবি করে সংগঠনটি।
মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নও। রোববার সন্ধ্যায় সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মেরাদ খান আদরের পাঠানো বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “মধুদা’র হত্যাকারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন স্বাধীনতাকামী ও প্রগতিশীল ছাত্র-জনতার জন্য লজ্জার।”
“মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাকারী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সরাসরি উত্তরাধিকার ইসলামী ছাত্রশিবির, যারা মুক্তিযুদ্ধে আলবদর, আল শামস, রাজাকার বাহিনী গঠন করে গণহত্যা চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি।”
বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বয়কট করতে আপামর ছাত্র-জনতাকে আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।
এদিকে, দেশের চলমান বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ‘পথ অনুসরণ করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, “ছাত্র রাজনীতি নিয়ে যে জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা কিছু ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারি, ট্যাগিং ও দোষ চাপিয়ে দেওয়ার হীন সংস্কৃতি চালু রাখার ফলে নষ্ট হচ্ছে। “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলকে তাদের পথ অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে।” রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শিবির সভাপতি।
খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনার প্রসঙ্গ ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নিজেরা সন্ত্রাসী কায়দায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে তার দায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। যার প্রবক্তা ছিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ।” ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে ‘অন্যায়ভাবে দমনের চেষ্টার’ অভিযোগও তিনি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তোলেন। ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ‘শিবির কোবানো বা কোপানো জায়েজ আগেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে’ এমন বীভৎস ঘোষণা দিচ্ছে।
“কুয়েটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছে। খুলনার শিববাড়ীতে তাদের মিছিলে ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এমন ভয়ঙ্কর স্লোগান আমরা ছাত্রলীগের মুখে শুনতাম, ছাত্রদলের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশেও ‘ফ্যাসিবাদের টুলসগুলো’ কিছু ছাত্রসংগঠন ঘোষণা দিয়ে গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, “অপরাধীদের হাত বদল হলেও অপরাধ আগের মতই চলছে। সারাদেশে শত শত জায়গায় চাঁদাবাজি, দখলদারি দেখে বোঝার উপায় নেই যে দেশে কোনো পরিবর্তন হয়েছে।
“২২ ফেব্রুয়ারি যশোরের চাঁচড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় সম্রাট নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর চোখ উপড়ে ফেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। গতকাল (শনিবার) গাজীপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদা আদায় করার ঘটনা আপনারা দেখেছেন। প্রতিদিন এমন অসংখ্য ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।” সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখা দেওয়া হয় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সম্প্রতি কুয়েট, সিলেট এমসি কলেজ এবং তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় যে হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তা একটি ছাত্রসংগঠনের নব্য ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার ধারাবাহিকতারই অংশ।
“কুয়েটে সাধারণ ছাত্রদের ওপর ছাত্রদল-যুবদলের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য দিবালোকে পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হয়। ছাত্রদল তাদের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দেয়। প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ‘শিবিরের ওপর দায় দিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা’ প্রদান করে, যার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তাদের ঘৃণ্য পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে যায়।”
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply