বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে গঠিত নতুন ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’। শীর্ষ পদে আসা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, উত্তেজনা এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতি- এমন পরিস্থিতির মধ্যে আত্মপ্রকাশ করলো নয়া এই ছাত্রসংগঠনটি। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বেলা তিনটায় মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা ছিল। এ উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কেরা সেখানে এসে জড়ো হন।
অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজেদের পর্যাপ্ত সংখ্যক পদ দাবি করে বিক্ষোভ করেন। মধুর ক্যানটিনের সামনে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বিকেল চারটার পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মধুর ক্যানটিনে এসে নতুন ছাত্রসংগঠনের নাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে মল চত্বরের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পদবঞ্চিত দাবি করে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে আরেক দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট , বাংলাদেশ ফার্স্ট ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করা, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা এবং দলীয় নেতাদের চাঁদায় দল পরিচালনা করার কথা বলছেন সংগঠনটির নেতারা।
এ ছাড়া কেন্দ্রে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত এবং ইউনিটগুলোতে স্নাতকে ভর্তি হওয়া থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সংগঠনটির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে সামনে রেখে একটি নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করতে এই নতুন ছাত্রসংগঠন গঠন করছেন বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার আহ্বায়ক পদে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম দায়িত্ব নিয়েছেন। সদস্যসচিব পদে জাহিদ আহসান, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব রিফাত রশীদ, মুখ্য সংগঠক পদে তাহমীদ আল মোদ্দাসসীর চৌধুরী এবং মুখপাত্র পদে আশরেফা খাতুন রয়েছেন।
সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিতে আহ্বায়ক পদে আব্দুল কাদের, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লিমন মাহমুদ, সদস্যসচিব পদে মহির আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আল-আমিন, মুখ্য সংগঠক পদে হাসিব আল ইসলাম এবং মুখপাত্র পদে রাফিয়া রেহনুমা হৃদি রয়েছেন।
এর আগে কমিটি ঘোষণার বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নতুন ছাত্র সংগঠনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিক্ষোভের মধ্যেই মধুর ক্যান্টিনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া আবু বাকের মজুমদার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। যে ৬ জন সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারমধ্যে তিনি একজন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আগে তিনি আখতার হোসেন ও নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
কেন্দ্রের সদস্যসচিব পদে আসা জাহিদ আহসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দপ্তর সেলের সম্পাদক ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এ ছাড়া আবরার ফাহাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হামলার শিকার হন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক পদে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংসদের সহ-সভাপতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তিনি ‘একতার বাংলাদেশ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করেন। অভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত একাধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী আশরেফা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনিও সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক পদে এসেছেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের। আব্দুল কাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যখন প্রথম সারির সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তিনি সামনে এগিয়ে আসেন এবং গণঅভ্যুত্থানের ৯ দফা ঘোষণা করেন; যা আন্দোলনকে একদফার দিকে নিয়ে যায়। এর আগে তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি ও ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব পদে আসা মহির আলম গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। এ ছাড়া মুখ্য সংগঠক পদে আসা হাসিব আল ইসলাম সমন্বয়ক হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে আসা বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী রাফিয়া রেহনুমা হৃদি সমন্বয়ক হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া নারীদের হলে আবাসন সংকট নিরসনসহ একাধিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনিও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply