বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : পতিত স্বৈরাচারের দোসর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী আইসিটিম্যান মামুন আল হাসানের যোগসাজশে উজ্জল মল্লিক নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অঘোষিত নেতা বনে গিয়ে গাড়ি ও পাটর্স ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে থ্রি হুইলার ব্লু গ্যাস চালিত মালিক শ্রমিকরা সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও এহেন ফ্যাসিস্ট শক্তি ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে নানা ধরণের কলকাঠি নাড়ছেন। ফ্যাসীবাদী শাসনামলে প্রভাববিস্তারকারী এই ব্যবসায়ীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে কালীবাড়ি রোডস্থ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক কার্যালয়ে বিক্ষোভও করেছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক বরিশাল মেট্রোর ট্রাফিক বিভাগের চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে বেশ পরিচিত টিআই ১ বিদ্যুৎ কর্মকার ক্ষুদ্ধ মালিক শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।
বিক্ষুব্ধরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের শেষের দিকে আট বছর ধরে মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন স্বৈরাচার দোসর সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী উজ্জল মোল্লা। তার ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মালিক শ্রমিকরা নিরবে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসলও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সুযোগ ছিল না। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট বিজয় অর্জনের পর এই প্রথম থ্রি হুইলার চালকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিএন্ডবি রোডস্থ ভাই ভাই পাটর্সের স্বত্তাধিকারী উজ্জলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে বিক্ষোভে মিলিত হন।
ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা সাদিকের অনুসারী এই উজ্জ্বল শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যাবহার করে বরিশালের সড়কগুলোতে তার নামে ২৫টি অবৈধ থ্রি হুইলার পরিচালনা করছে। এবং মাসে মাসে বিট নিচ্ছে। উজ্জলের নেতৃত্বে থাকা এসব গাড়িগুলোকে কম জরিমানা করেছে ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।
মালিক ও চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের গাড়ী আটকে মামলা দেওয়া হলেও ছাড়িয়ে আনতে উজ্জ্বলের তুলনায় ডাবল জরিমানা গুনতে হয়। যদি ট্রাফিক বিভাগ উজ্জ্বলের কথা মতো চলে তাহলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার মালিক শ্রমিকদের সচেতন হওয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, কোন দালালের মাধ্যমে কেউ শরণাপন্ন না হয় সরাসরি ট্রাফিক অফিসে এসে আবেদন করবেন। এক্ষেত্রে তৃতীয় কোন পক্ষ কিংবা দালাল থাকবে না। ভবিষ্যাতে আপনারা আর কোন দালাল সৃষ্টি করবেন না বলে মন্তব্য করে শ্রমিকদের বলেন, আপনারাই দালাল খোঁজেন এবং দালাল সৃষ্টি করেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply