বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : পুলিশের চোখে-মুখে স্প্রে ছিটিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (২০ নভেম্বর) বিকেলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এরা হলো প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মইনুল হাসান শামীম ও আবু সিদ্দিক সোহেল। দুই জঙ্গি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজধানীতে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
রোববার সকালে ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইবুনাল প্রাঙ্গণ থেকে আনসার আল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা। এই দুই জনই ২০১৫ সালে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় এবং জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।
২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান ও আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব রয়েছেন।
ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গির মধ্যে একজন মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান (২৪)। সে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। আর অপর জন আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব (৩৪)। সে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেটশ্বর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
ট্রাইবুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সারোয়ার খান জাকির জানান, রোববার সকালে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের হাজতখানায় রাখা হয়। হাজতখানা থেকে তাদের সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আট জন পুলিশের দিকে স্প্রে জাতীয় কিছু ছুড়ে মেরে আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে, রাজধানীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, ওই দুই জঙ্গি পুলিশকে স্প্রে করে আগে থেকে প্রস্তুত মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে আশপাশের সব স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হচ্ছে।
এর আগে রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট জারি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পালিয়ে যাওয়াদের ধরতে পুলিশের একাধিক ইউনিট মাঠে কাজ করছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুই জঙ্গিকে মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুই জঙ্গি সদস্য পুলিশের চোখে-মুখে স্প্রে করলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই জঙ্গি পালিয়ে যায়।
আদালত এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। পুরো এলাকায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামানসহ আরও ঊর্ধ্বতনরা বর্তমানে আদালত এলাকায় অবস্থান করছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply