বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের হলে ছাত্রলীগ নেত্রী কর্তৃক তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সংবাদকর্মীরা খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এরপর চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী স্টাইলে হামলা চালান। নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজ প্রশাসনের এমন আচরণে আমরা হতাশ হয়েছি। মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার রাতে ছাত্রী হলের ৬০৬ নম্বর কক্ষে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীকে র্যাগিং নামক নির্যাতনের ঘটনার জন্ম দেয়। হলে অবস্থান করা ডেন্টাল ৭৩ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহমিদা রওশন ওরফে প্রভা, ৫০তম ব্যাচের নীলিমা হোসেন ওরফে জুঁইয়ের নেতৃত্বে এই র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। তারা নিজেদের ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। যদিও বর্তমানে সেখানে সংগঠনটির কোনো কমিটি নেই। ওই ছাত্রীকে গভীর রাতে দুই দফায় হলের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রেখে গালাগাল, হুমকি এবং মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়েছে। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রগুলো বলছে-বিচার দাবিতে ওই ছাত্রী ও তার মা শনিবার (২৬ আগস্ট) সকালে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে যান। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসানসহ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার হোসেন রানা, চিত্র সাংবাদিক রুহুল আমিন, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার ফিরোজ মোস্তাফা ও চিত্র সাংবাদিক আজিম শরিফ এবং বাংলানিউটোয়েন্টিফোর.কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মুশফিক সৌরভ। ভুক্তভোগীরা তাদের বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরায় হঠাৎ সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন দুই চিকিৎসক। সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে র্যাগিংয়ের শিকার ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে আটকে রাখে তারা।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক ডা. সৈয়দ বাকী বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সাহা সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা করেন। সাংবাদিকদের প্রথমে চড়-থাপ্পর, ধাক্কা ও পরে চেয়ার দিয়ে পেটানো হয়।
সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহামুদ বলেন, ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই ডা. বাকী ও ডা. প্রবীর আমাদের ওপর হামলা চালান। আমাদের ক্যামেরা ও ট্রাইপড ভাঙচুর করা হয়েছে। র্যাগিংয়ের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
চ্যানেল টোন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার হোসেন রানা বলেন, আমাদের ওপর হামলা করাটা তাদের অপকর্ম ঢাকার প্রচেষ্টা। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ এসে দুপুর ১টার দিকে আমাদের উদ্ধার করে।
র্যাগিংয়ের শিকার ওই ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই ছাত্রলীগের নেত্রী পরিচয় দেওয়া ওই ছাত্রীরা তাঁকে এবং তাঁর রুমমেটকে নানাভাবে গালাগাল দিয়ে মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। এতে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে যেন এ ধরনের আচরণ না করা হয়, সে জন্য নেতৃত্ব দেওয়া ওই ছাত্রীদের একজন সহপাঠীকে দিয়ে অনুরোধ করান তাঁরা। কিন্তু এতে অভিযুক্তরা ক্ষেপে যান। এর জেরে বুধবার রাত ১১টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী ও তাঁর রুমমেটকে হলের ৬০৬ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের দুজনকে দাঁড় করিয়ে অভিযুক্তদের সহপাঠীর কাছে কেন ‘নালিশ করা হয়েছে’, এ জন্য কৈফিয়ত চান এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তাঁদের মুঠোফোন নিয়ে তা তল্লাশি করার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আধা ঘণ্টা নানাভাবে শাসিয়ে দুই ছাত্রীকে তাঁদের কক্ষে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কক্ষে ফিরে ভীতসন্ত্রস্ত এক ছাত্রী বিষয়টি অভিযুক্তদের ওই সহপাঠীকে জানালে তিনি ফোন করে ছাত্রলীগ পরিচয় দেওয়া নেত্রীদের কাছে উষ্মা প্রকাশ করেন। এরপর ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে আবার ডাকা হয়।
র্যাগিংয়ের শিকার ছাত্রী আরও বলেন, রাত ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় ডেকে নিয়ে দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে আবারও গালাগাল করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় তাঁকে। এ সময় ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করেন এবং তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁকে বসতে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তাঁকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পুনরায় তল্লাশি করা হয়। দুই ঘণ্টা ধরে এভাবে মানসিক নির্যাতনে ওই ছাত্রী অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে কক্ষে পাঠানো হয়। এর পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন আমার মেয়েকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করছে তারা। কলেজ প্রশাসন যখন দুই ছাত্রীর বক্তব্য নিচ্ছিল, নির্যাতনকারীরা তখন বাইরে অবস্থান নিয়ে হাসাহাসি করছিল। কলেজ প্রশাসনের এমন আচরণে আমরা হতাশ হয়েছি। মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।’
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, হামলার ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ঘটনার বিচার চাই।
ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের মধ্যস্থতায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক নেতারা আলোচনায় বসেন। সেখানে হামলাকারী দুই চিকিৎসক হামলার শিকার সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান।
কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশার বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
[…] শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে বিক্ষোভ বরিশাল মেডিকেলে ছাত্রলীগ নেত্রীর র্… বানারীপাড়ায় উদয়কাঠি ইউনিয়ন […]