বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, বাউফল : বাউফলের চন্দ্রপাড়া গ্রামের অসংখ্য অপকর্মের হোতা মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদারের দখল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা’র রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে আসলেও এ যেনো দেখার কেউ নেই! তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর রয়েছে কয়েক ডজন অভিযোগ। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ। তবুও অপরাধ জগতের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই মমিন চৌকিদার। এতো অপরাধের জন্ম দিয়ে বার বার পাড় পেয়ে যাওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ধুমায়িত হচ্ছে। জনমনের প্রশ্ন-দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকার পরও কি এমন অদৃশ্য ক্ষমতার দাপুটে শক্তিতে সন্ত্রাস প্রকৃতির এই মমিন ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে দেদারছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে? এই মমিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কি লাগাম টেনে ধরতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন?
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে- অদৃশ্য ক্ষমতার দাপুটে শক্তিতে একের পর এক অন্যায়-অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করে চলছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজী, জাল জালিয়াতি, মাদক কারবারী, নারী নির্যাতনকারী, নারী লোভী, দেহ ব্যবসা থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নেই যে এই মমিন খান জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় রয়েছে কয়েক ডজনের বেশি অভিযোগ। এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ মমিন খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের অত্যাচারে অতিষ্ট। অসংখ্য মানুষ তার অত্যাচারের শিকার হয়েছে। নির্যাতিত-ভুক্তভোগী পরিবারের প্রাণের দাবি-এই মমিন খান এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন অপকর্মের হোতা মমিন খান চাঁদার দাবিতে ও খুনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ মনিরুল ইসলাম শাহিনের ঘরে হামলা ও চুরি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। মামলা নং সি আর ৫৯১/২৩
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, গত ২৯ শে জুলাই মমিন চৌকিদারের নেতৃত্বে ইমরান সাদ্দাম কামাল জামাল সুমন রাসেল হানিফ সহ ১৫/২০ জনের একটি দল চাঁদার দাবিতে শাহিনের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়ে ফার্মেসি সংলগ্ন বাসার আলমারি ভেঙে এক লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এবং শাহিনের গলার চেইন, তার ভাইয়ের হাতের ব্রেসলাইট নিয়ে যায়। শাহিনের বাবাকে মারধর করে অর্থ লুটে নেয়। আসামিরা শাহিনের বিল্ডিং এর সেন্টারিং এর কাট, লোহার রিং নিয়ে যায়। শাহিনের বিল্ডিং এর রড ভাঙচুর করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ ব্যাপারে শাহীন পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার ধারা ৩৮৫ ৩২৩ ৩০৭ ৩৭৯ ৫০৬ ৩৮৬ ৩৮৭। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য বাউফল থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করে। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই নাসির উদ্দিন।
বাউফলের চন্দ্রপাড়া ও আশপাশ এলাকার সাধারন মানুষ এই মমিন চৌকিদারের হাত থেকে রক্ষা পেতে চায়। দিনের পর দিন এক একটি অপকর্ম করে যাচ্ছে। এ যেনো দেখেও দেখছে না প্রশাসন। মমিন চৌকিদারের এক ভাই দুলাল খান বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে চাঁদাবাজি মামলায় পটুয়াখালী কারাগারে আছে। সেই মামলায় মোমিন চৌকিদার আসামি। একজন চৌকিদার হয়ে যদি ইয়াবা-গাজার ব্যবসা করে চাঁদাবাজি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তাহলে সাধারন মানুষ কোথায় যাবে? দিনের পর দিন এই মমিন নির্যাতন করে যাচ্ছে মানুষকে। মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মানুষ বিচার চাচ্ছে এই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ জাল জালিয়াতিকারী গাজা ও ইয়াবা ব্যবসায়ী মমিন চৌকিদারের।
এসব বিষয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সাধারন মানুষ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদার ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আমি জামিনে রয়েছি। আর বাকী মামলায় খালাস পেয়েছি। এছাড়া এলাকায় আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply