বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : কক্সবাজারের টেকনাফের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিষ্কৃত সাত সদস্যকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাত আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামি। তাঁরা হলেন-তৎকালীন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, টেকনাফের একজন কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে করা মামলায় এ রায় হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় দিয়েছেন। ৩৬৫ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় সাত বছর করে তাদের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এ সাজা তাদের এক সঙ্গে ভোগ করতে হবে। ফলে সাজা সাত বছর বলে গণ্য হবে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের সড়ক থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় গফুরের পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোরে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে চৌকির সেনা সদস্যরা তল্লাশি করে তাতে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনা সদস্যরা।
পিপি ফরিদুল আলম আরও জানান, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদী হয়ে ডিবি পুলিশের ওই সাত সদস্যকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাত সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তিনি জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে জামিনে থাকা ডিবি পুলিশের সাত সদস্যের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান বিচারক। পরে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply